Image description

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের দুর্গম বটতলী পাড়ায় প্রায় দুই বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে বিদ্যুতের খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন। কোথাও খুঁটি ভেঙে পড়েছে বসতঘরের ওপর, কোথাও আবার চলাচলের রাস্তার ওপর ঝুলে আছে বিদ্যুতের তার। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার অন্তত ৩৫টি পরিবার। রোববার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার প্রধান চলাচলের সড়কের ওপর বিপজ্জনকভাবে ঝুলে রয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তার। কয়েকটি বসতঘরের ওপরও হেলে ও ভেঙে পড়া অবস্থায় দেখা যায় বিদ্যুতের খুঁটি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় তার ছিঁড়ে বা খুঁটি পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা ক্যাউথোয়াই চিং মারমা ও আদোমা মারমা জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতার কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কয়েকটি খুঁটি ও তার ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী লাইন সংস্কারের জন্য তাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা দিতে না পারায় পরে আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। স্থানীয় বাসিন্দা মানু মারমা ও উসুই থোয়াই মারমা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের কারণে পুরো এলাকার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কয়েকটি গবাদিপশু-গরু ও ছাগল-মারা গেছে বলেও দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, নারী ও শিশুসহ এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি ও তার অপসারণ করে বিদ্যুৎ সংযোগের স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিৎমরমের স্থানীয় বাসিন্দা উথোয়াই মং মারমা বলেন, কিছুদিন আগে বটতলী এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনটি তাঁর নজরে আসে। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। নিজেদের অর্থে বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে কাপ্তাই বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমার অধীনস্থ কেউ আমাকে অবগত করেনি।’ তবে দ্রুত ওই এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ ও বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্যে এখন মূল প্রশ্ন- দুই বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বিদ্যুৎ লাইনটি বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংস্কার করা হবে কি না।

এম আর এ