Image description

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানভেদে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। উপজেলার ৩৩টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ১৬৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৮২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র সাতজন। অকৃতকার্য হয়েছে ৪৮৩ জন।

এর মধ্যে সবচেয়ে হতাশাজনক ফল করেছে উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কড়ইকান্দি গ্রামে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সাল থেকে এর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৭ জন এবং শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ২০০ জন। তবে চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র পাঁচজন। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের একজনও পাস করতে পারেনি।

মাদ্রাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নবম ও দশম শ্রেণিতে নয়জন শিক্ষক ক্লাস নেন। অন্য শিক্ষকরা বাকি শ্রেণিগুলোতে সমন্বয় করে পাঠদান করেন।’

মাদ্রাসার সুপার আকলিমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তাঁদের বেতন-ভাতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে শিক্ষকদের মনোবল ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ে শিক্ষকদের তদারকিও তেমন ছিল না। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করতে পারেনি।

অন্যদিকে, নান্দাইল উপজেলার ৩৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৪৬৫ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ১৮০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ২৮৫ জন।

প্রতিষ্ঠানভেদে এসএসসির ফলাফলেও বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে। নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১৬৭ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩৫ জন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন। বিপরীতে চর উত্তরবন্দ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র তিনজন।

দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ৩৩টি মাদ্রাসা থেকে ১ হাজার ১৬৫ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৮২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে সাতজন। এর মধ্যে কালীগঞ্জ বাবুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ১০২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। বিপরীতে কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসার পাঁচ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।

কারিগরি শিক্ষাতেও পাসের হার আশাব্যঞ্জক নয়। উপজেলার ছয়টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২৫৭ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে আটজন। নান্দাইল সরকারি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৩৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে আটজন। অন্যদিকে, সিংদই কারিগরি ইনস্টিটিউট থেকে ১৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র তিনজন।

কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়ের পেছনে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত নয়। ফলে সেখানে শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা নেই। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর শিক্ষকদের তদারকিও তেমন নেই।’