জমি লিখে না দেওয়ায় শ্বশুরকে হত্যার অভিযোগ
পুত্রবধূসহ গ্রেপ্তার ৩
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়ার জেরে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে এক প্রবীণকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহতের পুত্রবধূ ও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সৌদি আরবপ্রবাসী ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী হোসনা বেগম (৩৮), কথিত হত্যার চুক্তি বাস্তবায়নকারী খাইরুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (২২) এবং মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে নজরুল ইসলাম (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার থানার ২ নম্বর নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে নিজ শয়নকক্ষে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে ওই বৃদ্ধকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে দোয়ারাবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেনের নেতৃত্বে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশরাফ খান ও এএসআই আমির হোসেন সিকদারসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল রোববার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজ ভিটায় বসবাস করছিলেন। তাঁর জমি পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি আরবপ্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়ার নামে লিখে না দেওয়ায় পারিবারিক বিরোধ তীব্র হয়। একপর্যায়ে হোসনা বেগম ও ইসমাইল মিয়া তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হোসনা বেগম তাঁর দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে মোহাম্মদ আলী নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়লে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। এরপর রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত বৃদ্ধের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরদিন শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হোসনা বেগম স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালান এবং দ্রুত দাফনের আয়োজন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নিহতের মুখে রক্ত ও গলায় কালো দাগ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।
দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরে হোসনা বেগমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি চুক্তির মাধ্যমে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসএ




Comments