পানগুছি নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে স্বপ্ন
বারইখালী-বহরবুনিয়া সড়ক হুমকিতে, স্থায়ী বেড়িবাঁধের দাবিতে নদীপাড়ের মানুষের ক্ষোভ
একদিকে নদীর স্রোত, অন্যদিকে ভাঙনের আতঙ্ক—এভাবেই প্রতিদিন কাটছে পানগুছি নদীপাড়ের মানুষের জীবন। বর্ষা এলেই বাড়ে আতঙ্ক। কখন নদীগর্ভে বিলীন হবে বসতভিটা, ফসলি জমি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক—এ দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্থানীয়দের।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ফেরিঘাট থেকে বহরবুনিয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন অংশ এখন পানগুছি নদীর ভাঙনের মুখে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ভাঙন দেখা দেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় সড়কের বড় অংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
‘মাটি ফেলে আর কতদিন রক্ষা?’
এলাকার বাসিন্দা কামাল শেখ, জালাল শেখ, আলম শেখ, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাজিম মাহমুদ জুয়েল, সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মাসুমা আক্তার ও দিনমজুর আকলিমা বেগমসহ স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে তারা নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন। প্রতিবছর বর্ষা এলেই নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয়।
তাদের প্রশ্ন, ‘মাটি ফেলে বা রাস্তা জোড়াতালি দিয়ে আর কতদিন রক্ষা পাওয়া যাবে?’
স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ীভাবে মাটি ফেলে কিংবা রাস্তা সংস্কার করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নদীর ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত পরিকল্পিত ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটি রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা মেরামত করেও মিলছে না সুফল
স্থানীয় সমাজসেবক ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম মিঠু বলেন, বারইখালী ফেরিঘাট থেকে বহরবুনিয়া পর্যন্ত সড়কটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নদীভাঙনে সড়কটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে নিজ উদ্যোগে একাধিকবার সড়কটি মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু নদীর ভাঙন বন্ধ না হওয়ায় সেই মেরামত বেশিদিন টেকেনি। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
রফিকুল ইসলাম মিঠু আরও বলেন, ‘একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা গেলে শুধু একটি সড়ক নয়, হাজার হাজার মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও জীবন-জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব হবে।’
বেড়িবাঁধ হলে সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, বারইখালী ফেরিঘাটসংলগ্ন ইট সোলিং সড়কটি নতুন করে নির্মাণের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর ফেরিঘাট থেকে ঘসিয়াখালী অভিমুখে ইট সোলিং ও কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দ্রুত পদক্ষেপ চান স্থানীয়রা
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়ক ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পানগুছি নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—এমনটাই দাবি তাদের।
তাদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙনের কবলে পড়ে আরও বসতভিটা, কৃষিজমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নদীভাঙনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা এসব মানুষের দাবি—ত্রাণ নয়, সাময়িক মেরামত নয়; তারা চান নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান এবং একটি টেকসই বেড়িবাঁধ।
স্থানীয়দের মতে, পানগুছি নদীর ভাঙন রোধ করা গেলে রক্ষা পাবে জনবসতি, কৃষিজমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে নদীপাড়ের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকায় ফিরবে স্বস্তি ও স্বাভাবিকতা।
এসএ




Comments