Image description

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের কথিত নেতা শেখ সিফাতসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওসি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে শেখ সিফাত ছাড়াও তার বাহিনীর অন্যতম সদস্য ‘হোয়াইট জুম্মন’ রয়েছে। গ্রেপ্তার ৯ জনের মধ্যে তিনজন নারী। তবে অন্যদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি পুলিশ।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সালেহনগর এলাকায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত বুলবুল আহমেদ শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সহসভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ জানান, বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তাঁর দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছিল সিফাত বাহিনী। ওই ঘটনায় বুলবুল স্থানীয় ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলার জেরেই বুলবুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সালেহনগর এলাকায় সড়কে একা পেয়ে শেখ সিফাতের গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বুলবুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় বলে জানান কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধের পর বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছে।

এসএ