মগড়ার ভাঙনে হুমকির মুখে প্রাথমিক বিদ্যালয়
আতঙ্কে ১৭৮ শিক্ষার্থী
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় মগড়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের জানালা ঘেঁষে এখন বইছে নদীর স্রোত। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ ও ওয়াশরুম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন ভবনটিও ভাঙনের মুখে থাকায় আতঙ্কে দিন কাটছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। যেকোনো সময় পুরো বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। কয়েক দফা পরিদর্শন ও মাপজোখ করা হলেও এখন পর্যন্ত ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির পর বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের একটি অংশ ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বিদ্যালয় ছুটির পর ঘটনাটি ঘটায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।
মগড়া নদীর তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা বিদ্যালয় ভবনটির চারপাশের মাটি প্রতিদিনই নদীতে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের তীব্রতায় শ্রেণিকক্ষের জানালা ঘেঁষে চলে এসেছে নদীর স্রোত। একটি কক্ষ ও ওয়াশরুম হারিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ছোট একটি কক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে শিশুদের। এতে ১৭৮ শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি তাদের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম শঙ্কা।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বাগজান, কুঠুরীকোনা, পাহাড়পুর ও পরশখিলা গ্রামের শিশুদের শিক্ষার অন্যতম প্রধান ভরসা এ বিদ্যালয়। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বিদ্যালয় রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলেন, পুরোনো ভবনটি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নতুন ভবনটিও এখন ভাঙনের মুখে। প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে তারা আতঙ্কে থাকেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই স্থানে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুব জামান।
মগড়া নদীর তীব্র স্রোতে একদিকে বিলীন হচ্ছে বিদ্যালয়ের জায়গা, অন্যদিকে বাড়ছে ১৭৮ কোমলমতি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা। তাই বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
এসএ




Comments