Image description

খুলনার ডুমুরিয়ায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ থেকে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। খাল পুনঃখনন প্রকল্প দুটি উদ্বোধন করেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগর লবী।

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আরিফ হোসেন জানান, উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা দক্ষিণ পার্শ্বের আশি ফুট পর্যন্ত এবং সাহস ইউনিয়নের ডোলভাঙ্গা খাল থেকে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানে হয়ে তেলিখালি গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী পর্যন্ত দুটি খাল পুনঃখননের জন্য সরকার ৩ কোটি ৯ লাখ ৬ হাজার ৭৬৯ টাকা বরাদ্দ দেয়।

প্রকল্পের আওতায় খাল খননের পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ও পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর পর অবশিষ্ট ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটি প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজ পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করেছে। তবে অতিবৃষ্টি ও মাটির প্রকৃতিগত সমস্যার কারণে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর নিমতলা খালের নির্ধারিত ৭ কিলোমিটারের মধ্যে ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার খনন করা সম্ভব হয়েছে।

দুটি খাল পুনঃখননের ফলে এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়া, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, “সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি টাকা জনগণের টাকা। তাই এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।” নিয়ম অনুযায়ী যতটুকু কাজ হয়েছে, ঠিক ততটুকুরই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এনএ/