পুঠিয়ার বানেশ্বরে আবর্জনার স্তূপেই কলার হাট, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শ্রমিক-ব্যবসায়ীরা
জৈব সার তৈরির সম্ভাবনা থাকলেও নেই কার্যকর উদ্যোগ
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর কলার হাটে সপ্তাহে চার দিন বিপুল পরিমাণ কলার বেচাকেনা হলেও হাটজুড়ে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপের ওপরই চলছে কেনাবেচা ও লোড-আনলোডের কাজ। কলার পাতা, খোসা, কাণ্ড, পচা কলা, পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাটের শতাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কাজ করছেন।
শুক্রবার, শনিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার ভোর থেকে জমে ওঠা বানেশ্বর কলার হাটে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কলা আসে। বেচাকেনা শেষে কলার পাতা, খোসা, ডাঁটা ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট হাটের বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়। নিয়মিত অপসারণ না করায় এসব বর্জ্য পচে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় স্তূপে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠছে।
হাটে কাজ করা একাধিক শ্রমিক জানান, কলা গাড়িতে ওঠানো-নামানোর সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁদের এসব আবর্জনার মধ্যেই কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিবেশে কাজ করায় অনেকের চুলকানি, পচড়া, ত্বকের সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। বর্ষাকালে দুর্গন্ধ ও পচা আবর্জনার কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, বানেশ্বরের মতো বড় কৃষিপণ্যের হাটে আধুনিক ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি। নিয়মিত আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি বর্জ্যগুলো আলাদাভাবে সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করা হলে পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও সুফল পাওয়া সম্ভব।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, কলার খোসা, ডাঁটা, পাতা ও পচা কলা জৈব সার তৈরির মূল্যবান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এসব বর্জ্য কম্পোস্ট বা ভার্মি কম্পোস্ট পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে মানসম্মত জৈব সার উৎপাদন সম্ভব। এতে একদিকে হাটের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা যাবে, অন্যদিকে কৃষকেরা তুলনামূলক কম দামে জৈব সার পেতে পারেন। পাশাপাশি বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে নতুন আয়ের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় কলা বিক্রেতা সুজন বলেন, “বানেশ্বরের মতো বড় কৃষিপণ্যের হাটে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে এসব বর্জ্য দিয়ে জৈব সার তৈরির একটি কার্যকর প্রকল্প গড়ে তোলা সম্ভব।”
হাটের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন হাটের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত আবর্জনা অপসারণ এবং স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কলার বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে জানতে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বানেশ্বর কলার হাটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে একদিকে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কলার বর্জ্য থেকেই তৈরি হতে পারে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় জৈব সার।
এসএ




Comments