Image description

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন গ্রামবাসীর কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং দুই পাশের মাটি ধসে গেছে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষের দাবি, 'রোড আইডি' না থাকার মতো কারিগরি জটিলতার কারণে দীর্ঘ দেড় যুগেও সড়কটিতে কোনো মেরামতের ছোঁয়া লাগেনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, বোনারপাড়া ইউনিয়নের ভাঙাব্রীজ থেকে দুর্গাপুরগামী এই সড়কটি এখন কঙ্কালসার অবস্থায় পড়ে আছে। সর্বশেষ ২০০৭ সালে এই সড়কে পিচ ঢালাই করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় অনেক স্থানে সড়কের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে গেছে। অন্তত ১৫টি পয়েন্টে গভীর গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পশ্চিমবাটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই পথে চলাচল করতে গিয়ে পথচারীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে কৃষকদের খরচ ও দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ। স্থানীয় বাসিন্দা জামিনুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, “সড়ক নয়, এটি এখন মরণফাঁদ। রাতের বেলা তো দূরের কথা, দিনের আলোতেও এই পথে সুস্থভাবে চলাফেরা করা কঠিন।” কৃষক মাসুদুর রহমান জানান, এলাকার একমাত্র সড়কটির এমন অবস্থা যে এখন পায়ে হেঁটে চলাও যেন মস্ত বড় পরীক্ষা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি পাকাকরণের সময় কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এর নির্ধারিত 'রোড আইডি' নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই দাপ্তরিক ত্রুটির কারণেই ১৮ বছর ধরে সংস্কারের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ মেলেনি। অর্থাৎ, নথিতে সড়কটি থাকলেও এর কারিগরি পরিচয়ের অভাবে খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী নয়ন রায় সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, “কারিগরি জটিলতার কারণে এতদিন সড়কটির আইডি সংশোধিত হয়নি। তবে আমরা নতুন করে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গ্রামবাসীর দাবি, দাপ্তরিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত যেন এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার করা হয়। যে পথে চলাচল করা এখন মরণফাঁদ, সেই পথ যেন দ্রুত চলাচলের উপযোগী হয়—এটাই এখন তাদের একমাত্র চাওয়া।

ডিআর