ধনু নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের হিড়িক
৫ জনকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা
একদিকে নদীর বুক চিরে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলন, অন্যদিকে ভাঙনের তীব্রতায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। ধনু নদীর অব্যাহত ভাঙনে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার নূরানীপুরসহ নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর আরও নাজুক হয়ে পড়ছে এবং ভাঙনও তীব্রতর হচ্ছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খালিয়াজুরী উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যৌথভাবে ধনু নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নূরানীপুর গ্রামের সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় নৌকাসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক পাঁচজনকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত নৌকাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ধনু নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। নদীর তলদেশ থেকে নির্বিচারে বালু তুলে নেওয়ায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাবে নূরানীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
নদীপাড়ের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দিনের বেলায় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে নিজের ভিটেমাটি রক্ষা করার চেষ্টা করি, আর রাত নামলেই বালু উত্তোলনের শব্দ শুনে আতঙ্কে থাকি—কখন যে শেষ সম্বলটুকুও নদীতে চলে যায়।’
স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরিমানা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ধনু নদীর ঝুঁকিপূর্ণ তীর রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদীর বুক থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
এসএ




Comments