Image description

চাঁদপুরের নদীঘেরা ও চরাঞ্চল সমৃদ্ধ মতলব উত্তর উপজেলায় সাপে কাটা রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম কেনার জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ দেওয়া ৩ লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাতের এই অভিযোগ উঠেছে সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, বছরে চার শতাধিক মানুষ সাপে কাটার শিকার হওয়া এই জনপদের চিকিৎসা সংকট নিয়ে দৈনিক মানবকণ্ঠসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনির নজরে এলে তিনি দ্রুত উপজেলা পরিষদ থেকে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। এই বরাদ্দের চেক (নম্বর- ৮৬২৫৮৩৯১২১০২৫, সোনালী ব্যাংক) গত ১২ অক্টোবর ডা. মাহবুবুর রহমানের নামে ইস্যু করা হয়। নথিপত্রে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার ভ্যাকসিন কেনার একটি রশিদও জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, টাকা নিলেও কোনো ভ্যাকসিন কেনা হয়নি। এমনকি বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছেও কোনো হিসাব বা টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ইউএনও’কে সঙ্গে নিয়ে ডা. মাহবুবুর রহমান যে ভ্যাকসিনের বাক্স নিয়ে ফটোসেশন করেছিলেন, সেগুলো হাসপাতালের নিয়মিত স্টক (রানিং ক্যাশ) থেকে কেনা ছিল। উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের টাকায় কোনো ভ্যাকসিন কেনা হয়নি এবং সেই টাকা হাসপাতালের অ্যাকাউন্টেও জমা পড়েনি।

বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস জানান, এতো টাকার ভ্যাকসিন কেনার কোনো তথ্য হাসপাতালের নথিতে নেই এবং বিদায়ী কর্মকর্তা তাকে কোনো অর্থ বুঝিয়ে দিয়ে যাননি। ডা. মাহবুবুর রহমান বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কর্মরত আছেন। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সদুত্তর চেয়েছিলাম, কিন্তু এক সপ্তাহেও তারা সঠিক জবাব দিতে পারেনি। বাধ্য হয়েই আমাকে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যেতে হচ্ছে।”

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিআর