Image description

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী (৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত), উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে মোট ১৬৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছায় প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৬৭টি। নিয়ম অনুযায়ী এর মধ্যে ৮০ শতাংশ (১৩৪টি) পদোন্নতি এবং ২০ শতাংশ (৩৩টি) সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন ৯৪ জন, ফলে ৭৩টি পদই শূন্য। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, পদোন্নতি কোটার ১৩৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। বিপরীতে সরাসরি নিয়োগ কোটায় ৩৩টি পদের স্থলে কর্মরত রয়েছেন ৮৩ জন। অর্থাৎ সরাসরি নিয়োগ কোটায় অনুমোদিত পদের চেয়ে ৫০ জন বেশি কর্মরত থাকলেও পদোন্নতি কোটায় ১২৩টি পদ শূন্য পড়ে আছে।

প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘ এই শূন্যতার কারণে বর্তমানে ২৬ জন শিক্ষককে ‘চলতি দায়িত্ব’ দিয়ে কোনোমতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এদিকে সহকারী শিক্ষক পদেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের ৮৪৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭৫৯ জন। অর্থাৎ সহকারী শিক্ষকের ৯০টি পদ বর্তমানে শূন্য। এর মধ্যে ২৬টি পদে চলতি দায়িত্ব এবং ৬৪টি পদ নিয়োগযোগ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

প্রধান ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে মোট ১৬৩টি পদ শূন্য থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রমে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। কর্মরত শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত এই শূন্যপদগুলো পূরণ করা জরুরি। শিক্ষক সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপর পড়বে। তারা অতিদ্রুত পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পাইকগাছার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর এই শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডিআর