Image description

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের বুকে সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘আদর্শনগর পর্যটন কেন্দ্র’ এখন অনেকটাই পর্যটকশূন্য। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রচারের অভাব এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই কেন্দ্রটি এখন সরকারের জন্য ভর্তুকির বোঝায় পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই কেন্দ্রটির কাজ ২০১৯ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে উদ্বোধন করা হয়। তিন তলা ভিত্তির ওপর নির্মিত দুই তলা ভবনটিতে ১৪ জনের রাত্রিযাপনের জন্য সাতটি আধুনিক কক্ষ (ভিআইপি রুমসহ), ৪০ আসনের রেস্তোরাঁ ও গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। তবে এত সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও পর্যটকদের দেখা মিলছে না।

কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মো. সাইফুদ্দিন জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় পর্যটকরা আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না। গত এক সপ্তাহে মাত্র পাঁচজন পর্যটক এসেছেন এবং এর আগের সপ্তাহে কোনো পর্যটকই আসেননি। কোনো কোনো সপ্তাহে একজন পর্যটকও পাওয়া যায় না। এর ফলে কেন্দ্রটি পরিচালনায় প্রতি বছর সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

হিসাবরক্ষক জাকির আহমেদ জানান, যোগাযোগের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সমস্যাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। সোলার ব্যবস্থা থাকলেও ব্যাটারির অভাবে তা কাজে লাগছে না। তবে পর্যটন করপোরেশন থেকে নতুন ব্যাটারি পাওয়া গেলে এই সমস্যার সাময়িক সমাধান হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ডিঙ্গাপোতা হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগাতে এই কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ পর্যটকবান্ধব না হওয়ায় এবং যথাযথ প্রচারণা না থাকায় বিনিয়োগটি সুফল বয়ে আনছে না। দ্রুত সড়ক উন্নয়ন ও আকর্ষণীয় ইভেন্টের মাধ্যমে প্রচার বাড়ানো না হলে এই পর্যটন কেন্দ্রটি স্থায়ী লোকসানের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডিআর