Image description

জাল জন্মসনদ তৈরি করে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানো, আদালতের নথি গায়েব এবং আদেশের তথ্য জালিয়াতির অভিযোগে গাইবান্ধায় এক আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ এই আদেশ দেন।

অভিযুক্তরা হলেন—গাইবান্ধা জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপন, তার মুহুরি হাসান আলী এবং গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুর।

আদালত সূত্রে জানা যায়, তিনটি পৃথক মামলায় চারজন প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু সাজিয়ে জামিন করানোর অভিযোগ ওঠে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে। তদন্তে আসামিদের জালিয়াতির পাশাপাশি আদালতের নথি গায়েব ও আদেশের নথিতে কাটাকাটির প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল গোবিন্দগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম গালিব হাসানকে। গত ১৯ আগস্ট দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। প্রতিবেদনে এ ধরনের জালিয়াতিকে দেশের বিচার বিভাগের জন্য একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা মূল অভিযুক্ত আইনজীবী শেফাউল ইসলামের সনদ বাতিল, মুহুরির নিবন্ধনপত্র বাতিল এবং পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর শিশু আদালত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের বেঞ্চ সহকারী আনোয়ার হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় লিখিত এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, এখনো লিখিত এজাহার তার হাতে পৌঁছায়নি; কাগজ হাতে পেলেই দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিআর