শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের এক মাস পর ফের বিস্ফোরণ
জাজিরায় নারী আহত
শরীয়তপুরের জাজিরায় একটি রান্নাঘরে মজুত করে রাখা বিপুলসংখ্যক ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে রান্নাঘরের টিনের চালা উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আশপাশের দুটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় রোকেয়া বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মুলনা ইউনিয়নসংলগ্ন সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুরিয়া চরকান্দি এলাকায় ফারুক ছৈয়ালের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত রোকেয়া বেগম ওই বাড়ির মালিক ফারুক ছৈয়ালের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে রান্নার জন্য রান্নাঘরে প্রবেশ করেন রোকেয়া বেগম। এ সময় রান্নাঘরে মজুত করে রাখা বিপুলসংখ্যক ককটেল একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে রোকেয়া বেগম গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে রান্নাঘরের টিনের চালা উড়ে গিয়ে পাশের বাঁশবাগানে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় সামাদ ছৈয়াল ও হাকিম ছৈয়ালের দুটি বসতঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত রোকেয়া বেগমকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জাজিরা উপজেলার মুলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় একই এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
ওই ঘটনায় একজনের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ১০ জন আহত হন। ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত ৭০ বছর বয়সী মান্নান সরদার পরে মারা যান। এ ঘটনায় একটি মামলা চলমান রয়েছে।
এদিকে, শনিবার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে যে বাড়িতে, সেই বাড়ির মালিক ফারুক ছৈয়াল রেজাউল শিকদারের সমর্থক ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে রেজাউল শিকদার বলেন, “আমি রাজনীতি করি। হয়তো সে আমার মিছিল-মিটিংয়ে যেতে পারে। আবার সে অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়ায় সেখানকার বিএনপির মিছিল-মিটিংয়েও যেতে পারে। তবে সে যে সরাসরি আমার সমর্থক, এমনটা নয়। আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। বিস্ফোরণের ব্যাপারে বলতে পারি না।”
বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। রান্নাঘরে ককটেলগুলো কীভাবে এবং কারা মজুত করেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর আহমেদ বলেন, “দুপুরে রোকেয়া বেগম নামের এক নারীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাঁর শরীরে বিস্ফোরণের কারণে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, “রান্নাঘরে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে বিপুলসংখ্যক ককটেল মজুত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিস্ফোরণে রান্নাঘরের চালা উড়ে গেছে। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং কারা সেখানে ককটেলগুলো মজুত করে রেখেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এসএ




Comments