জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার সীমান্তবর্তী যমুনার চরাঞ্চলে গরু-মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। কাশবনের দখল নেওয়া প্রভাবশালী সিন্ডিকেটগুলোকে বিঘাপ্রতি মোটা অঙ্কের চাঁদা না দিলে বাথানমালিক ও রাখালদের ওপর জুলুম, গরু-মহিষ লুট এবং অপহরণের মতো ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিস্তীর্ণ তৃণভূমি বা কাশবনের আধিপত্য নিয়ে চরাঞ্চলে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি সারিয়াকান্দির পাকুরিয়া চরে কাশবনের দখলকে কেন্দ্র করে মুসলেম উদ্দীন নামে এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর চরাঞ্চলের চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বর্তমানে দুটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। এর একটি সিন্ডিকেট ‘আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট’ (নেতৃত্বে বর্তমানে ইউপি সদস্য শাহজাহান) এবং অন্যটি ‘বিএনপির সিন্ডিকেট’ (নেতৃত্বে গিয়াস ও হায়দার খান) নামে পরিচিত। তবে বিএনপি নেতা মঞ্জুর কাদের বাবুল খান তাঁর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রাখাল জানান, "এখানে মহিষ চরাতে হলে বিঘাপ্রতি ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। টাকা না দিলে মহিষ চুরি বা রাখালদের অপহরণ করা হয়।" সম্প্রতি চর ঘাঘুয়া এলাকা থেকে চারজন রাখালকে অপহরণ করা হয়েছিল, যাদের চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাথানমালিকদের দাবি, এই সিন্ডিকেটগুলোতে সব দলেরই লোক জড়িত এবং গত দুই বছরে তাদের তৎপরতা চরম আকার ধারণ করেছে।
তৃণভূমি নিয়ে বিরোধ ও চাঁদাবাজি বন্ধে সম্প্রতি স্থানীয় পর্যায়ে বৈঠকের আয়োজন করা হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম জানান, সমস্যার সমাধানে আলোচনা চলছে, তবে চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় এবং সারিয়াকান্দি থানার ওসি আ ফ ম আছাদুজ্জামান জানান, চাঁদাবাজির বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মুসলেম উদ্দীন হত্যা মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এবং সারিয়াকান্দির ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম জানিয়েছেন, চর এলাকার এই সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
ডিআর




Comments