Image description

কাপ্তাইয়ের শান্ত-সবুজ ডংনালা গ্রাম থেকে চট্টগ্রাম আদালতের কাঠগড়া—দীর্ঘ এই পথচলার গল্পটি শুধু একজন মানুষের ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়; এটি অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পাহাড়ি জনপদের নানা প্রতিকূলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা জয় করে আইন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তরুণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট হ্লানুচিং মারমা।

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ডংনালা গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম হ্লানুচিং মারমার। বাবা মংসুইপ্রু মারমা ও মা মাঅংচিং মারমার জ্যেষ্ঠ সন্তান তিনি। তাঁর ছোট ভাই বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন। পরিবারের অকৃত্রিম সমর্থন এবং নিজের দৃঢ় মনোবলকে পাথেয় করেই হ্লানুচিং এগিয়ে চলেছেন তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে।

হ্লানুচিং মারমার শিক্ষাজীবনের শুরু নিজ গ্রামের ডংনালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিকের পাঠ শেষ করে তিনি ভর্তি হন রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখান থেকে মাধ্যমিকের পাঠ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চমাধ্যমিকের জন্য ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে। ২০১২ সালে সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর শুরু হয় তাঁর স্বপ্ন পূরণের কঠিন অধ্যায়।

দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে (২২তম ব্যাচ) ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান হ্লানুচিং। দেশের অন্যতম প্রধান এই বিদ্যাপীঠ থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ২০২৩ সালে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ লাভ করেন।

বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলা দায়রা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে নিয়মিত প্র্যাকটিস করছেন। পাহাড়ি অঞ্চলের একটি প্রান্তিক জনপদ থেকে উঠে এসে আইন পেশার মতো সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করা হ্লানুচিং মারমা এখন এলাকার তরুণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম।

নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে অ্যাডভোকেট হ্লানুচিং মারমা বলেন, সমাজ ও পাহাড়ি অঞ্চলের অসহায়, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সঠিক আইনি সেবা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সহজ করাই তাঁর জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।

হ্লানুচিং মারমার সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতা মানুষের স্বপ্নপূরণের পথে চূড়ান্ত বাধা নয়। লক্ষ্য যদি দৃঢ় থাকে, আর সেই লক্ষ্য অর্জনে থাকে নিরলস পরিশ্রম ও অধ্যবসায়, তাহলে প্রতিকূলতাকে জয় করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।

এসএ