কৃষি অফিসের নীরবতায়
খানসামায় বেপরোয়া সার ডিলার সিন্ডিকেট
দিনাজপুরের খানসামায় অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণ সার মজুত রাখার অভিযোগে দুই সার ডিলারকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ এবং একটি গোডাউন সিলগালা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাকেরহাট বাজারের ‘মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স’ ও টংগুয়া বাজারের ‘মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্স’-এর গোপন গুদামে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়।
জানা গেছে, অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণ সার মজুত রাখার অভিযোগে বিএডিসি সার ডিলার ‘মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স’-কে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির গুদাম থেকে ৪৫০ বস্তা সার জব্দ করে তা সিলগালা করা হয়।
অন্যদিকে, টংগুয়া বাজারের বিসিআইসি সার ডিলার ‘মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্স’-কে একই অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, খানসামা উপজেলায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার—এই দুই দিনে পরিচালিত তিনটি অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত মোট ১ হাজার ৯৪৪ বস্তা সার জব্দ করেছে। এত বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুতের ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের প্রয়োজনের সময়ে বাজারে সারের সংকট দেখা দিলেও কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ সার ডিলারদের গুদামে মজুত ছিল—এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের নজরদারি, তদারকি ও দায়িত্বশীলতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
খানসামা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব রাজু বলেন, “ডিলারদের সার সিন্ডিকেটের কারণে খানসামা উপজেলার কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। কৃষি অফিসের অদক্ষতার সুযোগ নিয়ে অসাধু ডিলাররা অবৈধ পন্থা বেছে নিয়েছেন বলে আমরা মনে করি। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
৩ নম্বর আংগাড়পাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহজাহান পাটোয়ারী বলেন, “সারের জন্য একদিকে কৃষকদের আহাজারি, অন্যদিকে কৃষি অফিসের নীরবতা—এই দুই চিত্রই বলে দেয়, অসাধু ডিলারদের দৌরাত্ম্য কতটা বেড়েছে। কৃষকরা সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আহ্বান জানাই।”
আংগাড়পাড়া ইউনিয়নের কৃষক আবু কালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনেক দিন ধরে ঘোরাঘুরি করেও খানসামা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এক বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায় না। অথচ এখন শত শত বস্তা সার জব্দ করা হচ্ছে। এত সার তাহলে কোথা থেকে এলো? কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার না দিয়ে এখন বিপুল পরিমাণ সার জব্দ হওয়ার ঘটনা কৃষি অফিসের দায়িত্বহীনতা ও অদক্ষতারই বহিঃপ্রকাশ। তাদের নজরদারির ঘাটতি ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণেই অসাধু ডিলাররা এতটা বেপরোয়া হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।”
অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, “অভিযুক্ত সার ডিলারদের সঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার জন্য ডিলারদের উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এসএ




Comments