ডিলারদের কারসাজিতে সারের সংকট?
দুর্গাপুরে বাড়িতে মিলল ৭০০ বস্তা
রাজশাহীর দুর্গাপুরে এক ব্যক্তির বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭০০ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার অবৈধভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কিসমত গনকড় ইউনিয়নের আড়ইল গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আড়ইল গ্রামের সাইদুর রহমানের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সার ডিলারের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতে মজুদ করে আসছিলেন। পরে এসব সার কৃষকদের কাছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার ডিলারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা প্রয়োজনের সময় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পাচ্ছেন না। সুযোগ বুঝে মজুদ করা সার বেশি দামে বিক্রি করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাইদুর রহমানের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সার মজুদের বিষয়টি এলাকায় আলোচিত ছিল। কৃষকরা নির্ধারিত দামে সার না পেলেও একটি বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ সার মজুদের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, “বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সাইদুর রহমানের বাড়ি থেকে প্রায় ৭০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। সারগুলো কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে মজুদ বা বেশি দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে বিপুল পরিমাণ সার জব্দের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সার মজুদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ডিলারদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।
একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যাতে কোনোভাবেই কালোবাজারি বা অবৈধ মজুদদারদের হাতে চলে না যায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন তারা।
প্রশাসনের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, কৃষকদের সার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট বা কালোবাজারির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এসএ




Comments