ঝিনাইদহের মহেশপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে কোটচাঁদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রেজাউল করিম পাঠান ওরফে ‘রেজাউল দালাল’সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে মহেশপুর থানার ওসি কার্যালয় থেকে রেজাউল পাঠানকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও যশোরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁর চার সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার অন্য চারজন হলেন—মহেশপুরের সুইট, সুজন ও নাসির মেম্বার এবং যশোরের কাঞ্চন। তবে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মহেশপুর থানার ওসি আজাদ রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডিবির একটি বিশেষ দল থানার কার্যালয় থেকে রেজাউল পাঠানকে গ্রেফতার করে। একই রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁর আরও চার সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে পাঁচজনকেই ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, রেজাউল পাঠান দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে পুলিশ ও র্যাবের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। এই পরিচয়ের আড়ালে সীমান্তবর্তী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সোনা, অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, এলাকায় তাঁর প্রভাব থাকায় দীর্ঘদিন কেউ প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস করতেন না। বিরোধে জড়ানো ব্যক্তিদের মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল পাঠান পুলিশের পোশাক পরে ভুয়া অভিযান চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রেজাউল পাঠানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
চোরাচালানের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে তাঁর বাড়ি ‘স্বর্ণ কার বাড়ি’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিল বলে জানা গেছে। এছাড়া ফরিদপুরে স্বর্ণ চোরাচালানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি আলোচিত হত্যা মামলাতেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
রেজাউল পাঠানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা একটি মামলায় মোট ২৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১৬ সালের ২৭ জুন রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬ কোটচাঁদপুরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। র্যাবের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়, অভিযানে একটি রিভলভার, ৪০ রাউন্ড গুলি, পাঁচটি দেশীয় অস্ত্র, এক সেট পুলিশের পোশাক, একটি ছোরা ও একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কোটচাঁদপুর থানায় মামলা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ।
পরবর্তী সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঝিনাইদহ সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জজ মো. নাজিমুদ্দৌলা রেজাউল ইসলাম পাঠান, কালীগঞ্জের মিলন ও জীবননগরের মধু মল্লিককে অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মোট ২৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
সাজা ঘোষণার পর রেজাউল পাঠান দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। এ সময়ও তিনি সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধচক্র পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক ডিবি অভিযানে রেজাউল পাঠানসহ তাঁর চার সহযোগী গ্রেফতার হওয়ায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলের চোরাচালান নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
বিশেষ করে তাঁর সঙ্গে কারা জড়িত, চোরাচালানের অর্থের উৎস ও গন্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে তিনি কীভাবে দীর্ঘদিন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন—এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এসএ




Comments