Image description

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নের ‘চরের রাজধানী’খ্যাত কুন্দেরপাড়ায় আবারও তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় কুন্দেরপাড়া, পূর্ব বাটিকামারী, বাটিকামারী ও পারদিয়ারাসহ আশপাশের চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, নদীভাঙনের মুখে পড়েছে চরাঞ্চলের একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি ওয়ান-স্টপ সেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি স্থাপনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করেই ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র রূপ নেয়। বিশেষ করে পূর্ব বাটিকামারী ও কুন্দেরপাড়া এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি। এতে ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেবলাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি ওয়ান-স্টপ সেবা কেন্দ্র, কয়েকটি মাদ্রাসা, স্থানীয় হাটবাজার এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়।

কুন্দেরপাড়ার ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, গত সপ্তাহ থেকে আকস্মিকভাবে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ভিটেমাটি হারানোর চরম শঙ্কায় রয়েছেন। প্রতিদিনই নদীর পাড় ভেঙে বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

গণ উন্নয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, “এটি চরাঞ্চলের একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চরের শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।”

কেবলাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমা বেগম জানান, বিদ্যালয় ভবনটি বর্তমানে একেবারে নদীকূল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার স্বপ্ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

বাটিকামারী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, “দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারটি নির্মাণ করেছিল, সেটিও এখন নদীভাঙনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটিও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।”

কামারজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রায় দুই বছর আগে ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ওই অংশে তাৎক্ষণিক কোনো প্রকল্প না থাকলেও ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএ