Image description

‘স্বামীর ভাগ কাউকে দেওয়া যায় না’—সমাজে প্রচলিত এমন ধারণাকে ভিন্নভাবে দেখিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন রুমা আক্তার। স্বামীর পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেই তার দ্বিতীয় বিয়ের ব্যবস্থা করেন তিনি। পরে স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী নাজনীন সুলতানাকে সতীন হিসেবে ঘরে তুলে নেন রুমা।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকার অস্থায়ী বাসিন্দা আব্দুর রহমানের সঙ্গে প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তারের বিয়ে হয় প্রায় ১৭ বছর আগে। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। প্রায় চার বছর আগে আব্দুর রহমান তার পছন্দের নাজনীন সুলতানাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

তবে দ্বিতীয় বিয়ের পরও দুই স্ত্রীর মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি হয়নি বলে জানান আব্দুর রহমান। বরং একই ছাদের নিচে দুই স্ত্রীকে নিয়ে পারিবারিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন তিনি।

সাধারণত একই স্বামীর দুই স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে সমাজে নানা ধরনের বিরোধ ও দ্বন্দ্বের কথা শোনা যায়। কিন্তু রুমা ও নাজনীনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। তারা পরস্পরের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সংসারের বিভিন্ন কাজ ভাগাভাগি করে করেন।

রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ঘরের অন্যান্য কাজও তারা মিলেমিশে সম্পন্ন করেন। একই সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, বাইরে ঘুরতে যাওয়া কিংবা অবসর কাটানোর সময়ও তাদের একসঙ্গে দেখা যায়।

আব্দুর রহমান জানান, সমাজের কিছু মানুষ তাদের নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও কটূক্তি করলেও তারা এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেন না। বরং নিজেদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েই সংসার পরিচালনা করছেন।

তার ভাষ্য, ব্যস্ততা ও নানা ধরনের সামাজিক টানাপোড়েনের মধ্যেও রুমা ও নাজনীনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। তাদের এই সম্পর্ককে তিনি সংসারের শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

স্থানীয়দের মধ্যেও দুই স্ত্রীর এমন পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস ও সহযোগিতার মাধ্যমে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব—রুমা ও নাজনীনের পারিবারিক জীবনকে ঘিরে এমন আলোচনাই উঠে আসছে।

এসএ