Image description

"আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমি কোনো বিচার চাই না, আমার একটাই ছেলে—আমি কেমনে আমার জীবন পার করব?"—নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর ১৩ বছরের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর এভাবেই আহাজারি করছিলেন তাঁর মা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাসায় উপস্থিত হওয়া কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সামনে বুকফাটা আর্তনাদে ভেঙে পড়েন এই শিক্ষিকা। মায়ের এমন শোকার্ত প্রশ্নে আবেগাপ্লুত হয়ে সংসদ সদস্য নিজেও চোখে জল ধরে রাখতে পারেননি।

একই সময়ে একমাত্র সন্তান হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়া বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, "শুক্রবার জুমার পর একসাথে দুপুরের খাবার খেয়ে ছেলেকে বলেছিলাম আজ দুজনে মুভি দেখব, একটা উপহারও দেব। ও বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার কথা বলে বের হয়েছিল। অন্যায় করলে ওরে মেরে ফেলতো, কিন্তু শুধু একটা ফোনের জন্য ওকে মেরে ফেললো? এটা কী হলো!"

এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতীম। স্বজনরা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে তার নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মরদেহ উদ্ধার শেষে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত যে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

ডিআর