ঘনিয়ে আসছে দুর্গোৎসব, চন্দনাইশের প্রতিমা শিল্পীদের দম ফেলার ফুরসত নেই
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশে চলছে শেষ মুহূর্তের তুমুল প্রস্তুতি। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শোভা পাচ্ছে ছোট-বড় দেব-দেবীর প্রতিমা। বাঁশ, কাঠ, খড় ও কাদামাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগর ও মৃৎশিল্পীরা। কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া ও শিল্পকর্মে রূপ পেতে শুরু করেছে মণ্ডপগুলো।
সরেজমিনে চন্দনাইশের বরকল, বরমা ও বৈলতলীসহ বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, একনিষ্ঠ মনে শিল্পীরা কাদা ও মাটি লাগানোর কাজ করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেউ প্রতিমার গায়ে মাটি দিচ্ছেন, কেউবা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুক্ষ্ম রূপ ফুটিয়ে তুলছেন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপেই কাদামাটির প্রথম ধাপের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপর শুরু হবে রংতুলির আঁচড় ও ঝলমলে সাজসজ্জার বর্ণিল ছোঁয়া।
তবে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কারিগররা। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসা ফরিদপুরের মৃৎশিল্পী লক্ষণ পাল ও বিমল পাল জানান, বাজারজুড়ে রং, তুলি, মাটি, খড় ও সাজসজ্জার সরঞ্জামের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। সেই তুলনায় প্রতিমার মজুরি ও আশানুরূপ চাহিদা না থাকায় তাঁরা তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।
চন্দনাইশ উপজেলা শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি বলরাম চক্রবর্তী জানান, এ বছর পুরো উপজেলায় মোট ১৩৫টি মণ্ডপে (৪৩টি ঘট পূজা ও ৯২টি প্রতিমা পূজা) উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার পূজা পরিষদের তথ্যমতে—বৈলতলী ইউনিয়নে ১টি ঘট ও ১২টি প্রতিমাসহ মোট ১৩টি; বরকল ইউনিয়নে ১টি ঘট ও ১০টি প্রতিমাসহ ১১টি; বরমা ইউনিয়নে ৬টি ঘট ও ১৯টি প্রতিমাসহ ২৫টি; ধোপাছড়ি ইউনিয়নে ১টি প্রতিমা পূজা; সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ৫টি ঘট ও ২টি প্রতিমাসহ ৮টি; জোয়ারা ইউনিয়নে ২টি ঘট ও ৪টি প্রতিমাসহ ৬টি; কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নে ১টি ঘট ও ৩টি প্রতিমাসহ ৪টি এবং হাসিমপুর ইউনিয়নে ৪টি ঘট ও ৯টি প্রতিমাসহ মোট ১৩টি পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
এছাড়া চন্দনাইশ পৌরসভায় ৬টি ঘট ও ১৭টি প্রতিমাসহ ২৩টি এবং দোহাজারী পৌরসভায় ১৬টি ঘট ও ১৬টি প্রতিমাসহ মোট ৩২টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপন করা হবে বলে জানান স্থানীয় পূজা পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনী বার্তা তথা দেবীপক্ষের সূচনা ঘটবে। পরবর্তীতে আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা সমাপ্ত হবে।
ডিআর




Comments