Image description

দীর্ঘ ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে এ নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) রবিউল ইসলাম।

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এতে এ রুটে চলাচলকারী পথচারী, যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট সূত্রে জানা গেছে, নৌরুটটিতে পারাপারের জন্য মূলত দুটি ফেরি বরাদ্দ রয়েছে। তবে এর মধ্যে একটি ফেরি গত দুই থেকে তিন মাস ধরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে আছে। অপর ফেরি ‘ক্যামেলিয়া’ পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও নাব্যসংকটের কারণে গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে পুরো নৌরুটে ফেরি সার্ভিস পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছিল।

দীর্ঘদিন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় রাজবাড়ী ও পাবনার মধ্যে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ স্পিডবোট ও ট্রলারে নদী পার হতে হয়েছে। এতে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

দীর্ঘ ১৫ দিন পর ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন চালকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পারাপারের অপেক্ষায় থাকা আজাদ হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘‘আজকে অনেক দিন পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলো। আমি প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন এই রুটে চলাচল করি। ফেরি বন্ধ থাকায় এই কয়দিন নদীতে প্রচণ্ড স্রোতের মধ্যেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রলার ও স্পিডবোটে যাতায়াত করতে হয়েছে। সকালে ফেরিটি ওপারে গেছে, ওপার থেকে এপারে ফিরে এলে আমরা নিরাপদে পার হব।’’

ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) রবিউল ইসলাম জানান, ‘‘পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। নদীর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হওয়ায় মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে এ নৌরুটে পুনরায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাবনা থেকে ফেরিটি যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে ধাওয়াপাড়ার উদ্দেশে ফিরে আসে।’’

তিনি আরও জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে অচল ফেরিটি মেরামত করে দুটি ফেরিই একসঙ্গে সচল করা গেলে যাত্রী ও যানবাহনের সুগম পারাপার আরও সহজতর হবে।

ডিআর