Image description

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিন। বুধবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে একই বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বরখাস্তকালীন সময়ে তারা ভরণপোষণ ভাতা পাবেন।

এলজিইডির চিঠি অনুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজটি করছে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে পৃথক ৪ চিঠি দেওয়া হয়েছে।

পৃথক আরেক অফিস আদেশে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নোয়াখালী জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়ক এ এস এম মহসীনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তপূর্বক তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

এর আগে, এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই প্রকৌশলীর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এলজিইডির চিঠি অনুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজটি করছে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

২১ সেপ্টেম্বর সেতুটির নির্মাণকাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেন এলজিইডির সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা। পরিদর্শনে দেখা যায়, সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের, যা নকশা ও স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত। একই সঙ্গে রেলিংয়ের রডের কাজও নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়।