Image description

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে সিএসসি ক্যামেরার ফুটেজ ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিকাশ অফিসের ডেকে নিয়ে ৩ বিকাশ কর্মী ব্ল্যাকমেইল করে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় ৩ বিকাশ কর্মীকে আটক করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ।

গতকাল ২৪ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী শাহজাদপুর বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের ৩ কর্মচারীর নাম উল্লেখ করে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে রাতেই অভিযুক্তদের আটক করে থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলো, শাহজাদপুর উপজেলার ডাকবাংলাপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের পুত্র ও শাহজাদপুর বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের আইটি বিশেষজ্ঞ তারেক রাব্বি (৩৬), বাজিয়ার পাড়া গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের পুত্র ও বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের প্রহরী
মোঃ হোসেন আলী (৪৮) এবং বেড়াকুচাটিয়া গ্রামের মোঃ সাইদুল ইসলামের পুত্র বিকাশ অফিসের ক্যাশিয়ার চয়ন ইসলাম(২৭)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩য় বর্ষের ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী শাহজাদপুর থানাধীন ডাকবাংলাপাড়ার পশ্চিম পাশে বিপ্লব কুমার সরকারের বাসার ৩য় তলায় মেস হিসেবে ভাড়া থাকেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তার এক পুরুষ বন্ধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মেসে আসেন এবং কিছু সময় অবস্থান করে চলে যান। ছাত্রীর রুমের পাশেই থাকা একই বিল্ডিংয়ে শাহজাদপুর বিকাশ অফিসের সিসিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণে যুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাটি লক্ষ্য করেন। 

২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় বিকাশ অফিসের লোকজন ভিকটিমকে বিকাশ অফিসে ডেকে নিয়ে উক্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। বিকেলের মধ্যে টাকা না দিলে ফুটেজ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি
(ব্ল্যাকমেইল) দেওয়া হয়। একই দিন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে অভিযুক্তরা উক্ত বিপ্লব কুমার সরকারের বিল্ডিংয়ে বিকাশ অফিসে ভিকটিমকে পুনরায় ডেকে নেয়। সেখানে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তার কাছ থেকে সোনার চেইন দাবি করা হয়। একপর্যায়ে অন্য আসামিদের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে মোঃ তারেক রাব্বি ভিকটিমকে একাকী পেয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের উদ্দেশ্যে পরণের পোশাক খোলার চেষ্টা চালায়। ভিকটিম নিজেকে ছাড়িয়ে বের হতে গেলে বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের প্রহরী মোঃ সামাদ তাকে ঝাপটে ধরে শ্লীলতাহানি করে। 

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তার বাড়িতে ফোন করার চেষ্টা করলে তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এক
পর্যায়ে শিক্ষার্থীর চিৎকার করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে পালিয়ে রাস্তায় নেমে আসলে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে আসেন এবং ঘটনাটি শোনেন এবং পরবর্তীতে ভিকটিম শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এব্যাপারে শাহজাদপুর বিকাশ পয়েন্টে ডিলার উত্তম কুন্ডু সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাজশাহীতে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ নাজমুল কাদের জানান, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পরপরই রাতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। আটককৃতদের নামে ধর্ষণচেষ্টা মামলা রঞ্জু করে বৃহস্পতিবার(২৪) সেপ্টেম্বর সকালে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এসএ