পটিয়ায় ৪৭টি প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ
দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পটিয়ায় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সরকারি মৎস্য কর্মসূচির আওতায় উপজেলার মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪৭টি জলাশয়ে এ পোনা অবমুক্ত করা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ পুকুরপাড়ে এই বিতরণ ও অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলা পরিষদ পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। পরবর্তীতে তিনি নির্ধারিত ৪৭টি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পোনা মাছ তুলে দেন।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবউল্লাহ, পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী আবু তাহের, পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মইনুল আলম ছোটনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, “জলাশয়ে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্তকরণ কেবল মাছের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয় নয়; এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জলজ সম্পদ সংরক্ষণের মানসিকতা তৈরির এক মহৎ উদ্যোগ। আমাদের নদী, খাল, বিল ও ধর্মীয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুকুরগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে স্থানীয়ভাবে মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, "সরকার প্রাকৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয় সংরক্ষণে জোর দিচ্ছে। তবে অবমুক্ত করা এসব পোনামাছ যাতে নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও এলাকার অধিবাসীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিয়মিত পোনা অবমুক্তকরণ এবং জলাশয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব। আয়োজকেরা জানান, প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়গুলোতে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মৎস্যসম্পদ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই সামাজিক ও সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিআর




Comments