সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই দিনে বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২১ জেলে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রের মুখে জেলেদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারিসহ অভিযান শুরু করেছে কোস্টগার্ড।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে সাগরসংলগ্ন ভাঙা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলেবহরে হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিরা। বিভিন্ন নৌকা থেকে ১৫ জেলেকে জোরপূর্বক একটি ট্রলারে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে সুন্দরবনের আরও কয়েকটি এলাকা থেকে ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অপহৃত ১৫ জেলের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে খুলনা, বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এবং মোংলা এলাকার জেলেরা রয়েছেন। বন বিভাগের অনুমতিপত্র বা পারমিট নিয়েই এসব জেলে সুন্দরবনের খাল ও নদীতে মাছ ধরছিলেন বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন জানান, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে দুই দিন আগে থেকে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন অভিযান শুরু করেছে। সুন্দরবনের দুর্গম নদী ও বনাঞ্চলে সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অতীতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক দস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণের সময় তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও ভারী অস্ত্র জমা নেওয়া হয়। এরপরও নতুন করে সশস্ত্র দস্যুদের তৎপরতা দেখা দেওয়ায় এসব অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় জেলে মো. জুলফিকার শেখ বলেন, “দস্যুদের পাশাপাশি তাদের হাতে ভারী অস্ত্র কীভাবে যাচ্ছে, কারা এসব অস্ত্র সরবরাহ করছে, তা খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
এক মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, “আগে দস্যুরা আত্মসমর্পণ করেছে, অস্ত্র জমা দিয়েছে। এরপরও যদি আবার অস্ত্রধারী দস্যুদের তৎপরতা শুরু হয়, তাহলে এর পেছনে কারা রয়েছে, তা বের করা জরুরি।”
স্থানীয় জেলে ও মহাজনদের অভিযোগ, সুন্দরবনে মাছ ধরার সঙ্গে দস্যুদের কথিত চাঁদাবাজির ব্যবস্থাও যুক্ত হয়েছে। তাঁদের দাবি, ‘চাঁদার কার্ড’ থাকা নৌকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদে চলাচল করলেও কার্ডবিহীন নৌকার জেলেদের টার্গেট করা হচ্ছে। অপহরণের পর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগও রয়েছে।
অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার, দস্যুদের তৎপরতা বন্ধ এবং অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, কার্যকর অভিযান ও নজরদারির মাধ্যমে সুন্দরবনে আবারও নিরাপদ পরিবেশ ফিরবে।
এসএ




Comments