Image description

২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো পুরোপুরি শুকায়নি ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর মানুষের। প্রায় দুই বছর পর বুধবার (১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফর এবং ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন’ কাজের উদ্বোধন ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বন্যাকবলিত জনপদে।

২০২৪ সালের আগস্টে ভারতীয় উজানের পানি, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে ও উপচে পানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। এতে প্লাবিত হয় ঘরবাড়ি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি।

বন্যায় ফেনীর ছয় উপজেলায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় কৃষি ও অবকাঠামো খাতে। ধ্বংস হয় প্রায় ২ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা সমমূল্যের সম্পদ। বন্যায় প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়।

ফুলগাজীর পশ্চিম বসন্তপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, বন্যার পানিতে এলাকার কৃষকদের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। পানি নেমে যাওয়ার পরও দীর্ঘসময় জমিতে জলাবদ্ধতা থাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হয়। নতুন প্রকল্পের আওতায় বাঁধগুলো টেকসই করার পাশাপাশি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা তাঁর।

একই গ্রামের কৃষাণী রুম্পা দে বলেন, বন্যার সময় ঘরবাড়ি ও ফসলের পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও দুর্ভোগে পড়তে হয়। খাবার পানি, রান্না ও স্যানিটেশন নিয়ে সংকট তৈরি হয়। ভবিষ্যতে বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা চান তিনি।

‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন’ কাজের আওতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, শুধু বাঁধ নির্মাণ করলেই হবে না; নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি।

ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম মজনু বলেন, মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পরশুরাম ও ফুলগাজীর মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যার দুর্ভোগ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, ফেনীর বন্যা সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নদী, বাঁধ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়ন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

পরশুরামের বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি নদী ও খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকল্পের নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর এর সুফল দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাবে। বিশেষ করে কৃষিজমি রক্ষা, জলাবদ্ধতা কমানো এবং ভবিষ্যৎ বন্যার ক্ষতি সীমিত করতে প্রকল্পটি মানসম্মত ও টেকসইভাবে বাস্তবায়নের দাবি তাঁদের।

বন্যার ক্ষত এখনো দৃশ্যমান। তবে নতুন বাঁধ, উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই ক্ষত পেরিয়ে নিরাপদ ফেনীর প্রত্যাশা করছেন পরশুরাম ও ফুলগাজীর মানুষ।

এসএ