Image description

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে গুনভরি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হকের বাড়িতে শিক্ষার্থীদের হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ করেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকেল ৪টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তাঁর বাড়িতে যায়। সেখানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সভাপতি মোজাম্মেল হক।

ঘটনার খবর পেয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পরে বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান ও ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসরাকুল ইসলাম বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বের হতে পারেন।

বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, আইসিটির ল্যাপটপ ও কম্পিউটার কাগজপত্রে থাকলেও বাস্তবে সবগুলো নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার শিক্ষার প্রয়োজনীয় জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তবে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিছিল করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষকরা। কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, এর আগে মঙ্গলবার সাংবাদিক নিয়ে এসে সভাপতি তাঁদের শিক্ষকদের অপমান করেছেন। এর প্রতিবাদেই তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তাঁদের দাবি, সভাপতির বাড়িতে কোনো ভাঙচুর করা হয়নি।

অভিভাবক সজল মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। শিক্ষার্থীদের কোনো বাড়িতে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়ানো ঠিক নয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতলুবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএ