শরৎ মানেই নীল আকাশে সাদা মেঘ আর মাঠজুড়ে কাশফুলের শুভ্রতা। ঋতুর এই অপরূপ সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর পাড়েও। নদীর তীরে ফুটে থাকা সাদা কাশফুল আর নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশ টানছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, চরাঞ্চলের সবুজ বুকজুড়ে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে শুভ্রতার বিশাল চাদর। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর ধরলা নদীর চরাঞ্চলগুলোতে নদীর তীরজুড়ে বিস্তীর্ণ কাশবন এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র। নীল আকাশ, সবুজের সমারোহ আর সাদা কাশফুলের মেলবন্ধনে ধরলার পাড়ে তৈরি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য।
শরতের স্নিগ্ধ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ধরলার পাড়ে ছুটে আসছেন অনেকে। কেউ কাশফুলের বনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করছেন নির্মল প্রকৃতি। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে। আবার অনেকেই ক্যামেরা কিংবা মুঠোফোনে ধারণ করছেন প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।
কাশবন দেখতে আসা মুন্নি, রেজিয়া, মামুন ও সোহেল জানান, শরতের কাশফুলের এমন সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে। বিশেষ করে বিকেলের মৃদু বাতাসে যখন কাশফুল দুলতে থাকে, খুব ভালো লাগে। বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসে ছবি, সেলফি ও ভিডিও তুললাম। শরৎ মানেই অন্যরকম এক প্রশান্তি।
আবৃত্তি শিল্পী ও ছড়াকার হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শরৎ এসেছে তার আপন মহিমায়। তারই ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রামের চরগুলো সেজেছে শরতের শুভ্রতায়। কবিরাও লিখছেন শরতের শুভ্রতা নিয়ে নানান কবিতা। বাঙালি জাতির সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য শরৎকে আমাদের ধরে রাখা উচিত।
ধরলার পাড়ে বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের শুভ্রতা আর নদীর নির্মল সৌন্দর্য মিলে যেন তৈরি হয়েছে শরতের এক অপূর্ব ক্যানভাস। আর সেই সৌন্দর্যের টানেই প্রতিদিন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে ধরলার তীরবর্তী চরাঞ্চল।
ডিআর




Comments