Image description

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল খালেক হাওলাদার অনাবাদি জমিতে আখ চাষ করে সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। খালের পাড়ের পরিত্যক্ত ২৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করে তিনি এখন লাভের আশা দেখছেন, যা এলাকায় অন্য কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে দেশি জাতের আখের চাষ শুরু করেন আবদুল খালেক হাওলাদার। দীর্ঘ ১১ মাসের পরিচর্যার পর তার আখ এখন কাটার উপযোগী হয়েছে। শুরুতে জমিটি অনাবাদি ও অব্যবহৃত থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি সেটিকে উৎপাদনশীল জমিতে রূপান্তর করেন।

কৃষক আবদুল খালেক হাওলাদার জানান, অনেকেই এই জমিতে চাষ করতে আগ্রহ দেখায়নি। আমি ঝুঁকি নিয়ে আখ চাষ শুরু করি। এখন ফলন ভালো হওয়ায় খরচ উঠে লাভের আশা করছি। 

তিনি আরও বলেন, আখের চাহিদা ভালো থাকায় বাজারে বিক্রি নিয়েও তিনি আশাবাদী।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে দুমকি উপজেলায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বেশ কিছু কৃষক আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে অনাবাদি জমি কাজে লাগিয়ে আখ চাষের প্রবণতা বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন বলেন, দুমকির মাটি ও আবহাওয়া আখ চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। কৃষকদের আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছি। 

তিনি আরও বলেন, আখ একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে আখ চাষ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, আবদুল খালেকের এই উদ্যোগ তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। অনেকেই এখন নিজেদের পতিত জমিতে আখ চাষের পরিকল্পনা করছেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে এলাকার অনাবাদি জমিও চাষের আওতায় আসবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে আখ চাষ দুমকির কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

ডিআর