Image description

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও বাগেরহাটের ফকিরহাটে এখনো জমে ওঠেনি পূজার বাজার। কেনাকাটার এই মৌসুমে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি যেমন নগণ্য, তেমনি বেচাকেনাও অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কেনাকাটার এমন মন্দাভাব দেখে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারই পূজার বাজার সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) ফকিরহাটের কাপুড়িয়া পট্টি, মা-মনি মার্কেট ও সিনেমা হল মার্কেটসহ প্রধান প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও গহনার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী পূজা ঘিরে নতুন কালেকশনও পশরা সাজিয়ে বসেছেন। তবে সাধারণত দুর্গাপূজার অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকেই বাজারগুলোতে যে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়, এবার চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।

ফকিরহাট বাজারের সাগরিকা বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মুল্যবৃদ্ধি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমুল্যের উর্ধগতির সাথে তাল মেলাতে না পারা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে।  যে কারণে উৎসবের কেনাকাটায় বিরুপ প্রভাব পড়েছে। অনেকেই তাদের উৎসব বাজেট কাটছাঁট করছেন। তবে মহালয়ার পর থেকে বাড়তে পারে কেনাকাটা। ’

পোস্ট অফিস রোডের কাপড় ব্যবসায়ী নিধির সাহা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক ক্রেতা শেষ মুহূর্তের ছাড় বা নতুন কালেকশনের আশায়ও তাদের কেনাকাটায় ষষ্ঠী বা সপ্তমীর আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। দেখা যাক কি হয়।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, ‘রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়েছে, অনেকের মাছের ঘেরে ভাইরাস লেগেছে, পানে দাম কম আর সুপারীও পুরোপুরি পেকে না ওঠার কারণে মানুষের হাতে পয়সা কম। সবমিলিয়ে এবার পুজোর জমজমাট বাজার আশা করা ভুল হতে পারে।’

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ফকিরহাট উপজেলায় ৭০টিরও বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিমা মণ্ডপে মণ্ডপে মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। উৎসবটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ফকিরহাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিক আগমনী বার্তা বাজবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে মূল দুর্গাপূজা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে।

ডিআর