আশুলিয়ায় ঋণের কথা বলে বোনের জমির দলিল নেওয়ার অভিযোগ
বাড়ির ফটকে তালা
ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার কথা বলে ছোট বোনের বসতবাড়ির জমির দলিল নেওয়া এবং পরে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বড় বোনের বিরুদ্ধে। বসতভিটা হারিয়ে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী আকলিমা বেগম। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঢাকার আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি বাতানটেক এলাকার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আকলিমা বেগমের বড় বোন তাসলিমা ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার কথা বলে তাঁর বসতবাড়ির জমির দলিল নেন। পরে ওই জমির মালিকানা নিয়ে দুই বোনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কায় দলিল বাতিলের দাবিতে প্রায় তিন মাস আগে ঢাকার জজ আদালতে মামলা করেন আকলিমা।
অভিযোগে আকলিমা বেগম উল্লেখ করেন, গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তাঁর স্বামী কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় বড় বোন তাসলিমা তাঁকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে দুই বোনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো, মারধর ও টানাহেঁচড়া করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন আকলিমা। পরে বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আকলিমার দাবি, বসতভিটা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তিনি। নিজের বসতবাড়িতে ফিরে যাওয়া, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই বোন একই বাড়িতে বসবাস করতেন। তবে বাড়ির মালিকানা নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
এদিকে, অভিযুক্ত তাসলিমার বক্তব্য জানতে ঘটনাস্থলে গেলে বাড়ির ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। ডাকাডাকি করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে আশুলিয়া থানা-পুলিশ। তবে বাড়ির ফটক বন্ধ থাকায় পুলিশ সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার কুন্ডু জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ফটক বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে ভেতরে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বসতবাড়ির প্রকৃত মালিকানা, জমির দলিল হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আপাতত নিজের বসতভিটায় ফিরে নিরাপদে বসবাসের সুযোগ পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন ভুক্তভোগী আকলিমা বেগম।
এসএ




Comments