মোংলায় ৪ বিঘা জমিতে ৫২ বিঘার সমান ফলন, পাটশাক চাষে সুলতানের সাফল্য
বাগেরহাটের মোংলায় পাটের আঁশের পরিবর্তে পাটশাক চাষ করে বছরে লাখ টাকা আয় করছেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষক মো. সুলতান জমাদ্দার। মাত্র চার বিঘা জমিতে বছরে ৫২ বিঘা জমির সমপরিমাণ পাটশাক উৎপাদনের দাবি করেছেন তিনি। স্বল্প জমিতে একাধিকবার শাক সংগ্রহ করে বিক্রির এই পদ্ধতি তাঁকে এনে দিয়েছে সাফল্য। তবে সম্ভাবনাময় এ চাষে সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর।
মোংলা উপজেলার মনপুরা ব্রিজসংলগ্ন শাহজালাল পাড়ার বাসিন্দা সুলতান জমাদ্দার পেশায় একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষক। তিনি চার বিঘা জমিতে পাটশাক চাষ করেন। একই জমি থেকে বারবার শাক সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেই আয় করছেন তিনি।
সরেজমিনে তাঁর ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, সবুজে ভরা জমিতে সারি সারি পাটগাছ বেড়ে উঠেছে। সতেজ পাটশাকে ভরে উঠেছে পুরো ক্ষেত। প্রচলিত পদ্ধতিতে পাটের আঁশ উৎপাদনের পরিবর্তে তিনি গাছের কচি পাতা শাক হিসেবে বিক্রি করেন।
এ বিষয়ে সুলতান জমাদ্দার দৈনিক মানবকণ্ঠকে বলেন, “আমি পাটকে আঁশের জন্য বড় হতে দিই না। শাক হিসেবে কেটে বিক্রি করি। একবার বীজ বপন করলে গোড়া থেকে আবার নতুন করে গাছ গজায়। এভাবে একই জমি থেকে বছরে ১০ থেকে ১২ বার শাক কেটে বিক্রি করা যায়। তাই চার বিঘা জমি থেকেই ৫২ বিঘা জমির সমপরিমাণ ফলন পাই।”
তিনি আরও বলেন, বাজারে সারা বছরই পাটশাকের চাহিদা রয়েছে। তিনি কীটনাশক ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে এ শাক চাষ করেন বলে জানান। এতে উৎপাদন খরচ কম হয় এবং লাভের পরিমাণ বাড়ে। পাটশাকে আয়রন ও বিভিন্ন ভিটামিন থাকায় ক্রেতাদের কাছেও এর চাহিদা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সুলতান জমাদ্দারের সাফল্য দেখে এলাকার অনেক তরুণ কৃষক পাটশাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তুলনামূলক কম জমিতে বারবার ফসল সংগ্রহের সুযোগ থাকায় এ পদ্ধতি কৃষকদের বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষির নতুন সম্ভাবনা হিসেবেও পাটশাক চাষকে দেখছেন তাঁরা।
মোংলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পীযূষ রায় বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষক হিসেবে সুলতান জমাদ্দারকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর এই চাষপদ্ধতি অন্য কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন সুলতান জমাদ্দার। তাঁর অভিযোগ, কৃষি অফিস থেকে তিনি কোনো সহযোগিতা পান না। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে বর্তমানের তুলনায় আরও বেশি উৎপাদন ও আয় করা সম্ভব হতো বলে মনে করেন তিনি। এ সময় পাটশাক চাষ সম্প্রসারণে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন এই কৃষক।
সুলতান জমাদ্দারের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, প্রচলিত চাষপদ্ধতির বাইরে বিকল্প কৃষি উদ্যোগও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে তাঁর উৎপাদন ও আয়ের পরিমাণ, চাষপদ্ধতির কার্যকারিতা এবং সরকারি সহায়তার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের মাধ্যমে যাচাই করা হলে এ উদ্যোগের বাস্তব সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হবে।
এসএ




Comments