Image description

দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় খরায় শুকিয়ে চৌচির হয়ে পড়েছে আমন ধানের জমি। অন্যদিকে ধানের বাড়ন্ত বয়সে যোগ হয়েছে কান্ড ছিদ্রকারী 'মাজরা পোকা'র তাণ্ডব। জোড়া সংকটে পড়ে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার আমন চাষিরা চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মাঠপর্যায়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মৌসুমে লাখাই উপজেলায় ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহে তা ছাড়িয়ে রেকর্ড ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নেই কমবেশি আমন চাষ হলেও মোড়াকরি, করাব, বামৈ ও মুড়িয়াউক ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। গতকাল 

​শুক্রবার লাখাইয়ের বিভিন্ন হাওড় ঘুরে দেখা যায়, ধানগাছগুলো এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘কাইচ থোড়’ (শীষ বের হওয়ার পূর্বমুহূর্ত) পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু পানির তীব্র সংকট ও অনাবৃষ্টির কারণে অধিকাংশ জমির মটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। খেত বাঁচাতে বাধ্য হয়ে কৃষকরা সেচপাম্প চালিয়ে অনেকে বাড়তি খরচে পানি দিচ্ছেন। ​এর ওপর নতুন উপদ্রব হিসেবে দেখা দিয়েছে মাজরা পোকার আক্রমণ। পোকা দমনে বাড়তি বিষ ও ওষুধ ব্যবহারে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

​মোড়াকরি গ্রামের কৃষক গোপাল চন্দ্র দেব বলেন, "ধানের খেত বাঁচাতে এখন সেচের পাশাপাশি দিন-রাত পোকামাকড়ের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। পানি না থাকলে ধানের সঠিক পরিচর্যা করা কঠিন। তার ওপর পোকার আক্রমণ ঠেকানো আমাদের মতো সাধারণ কৃষকের পক্ষে বাড়তি খরচের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মুহূর্তে কৃষি বিভাগের সরাসরি পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা খুব বেশি প্রয়োজন।"

মশাদিয়া গ্রামের শাহজাহান আরেক কৃষক বলেন, খেতে পানি নাই, তার মধ্যেই স্প্রে মেশিন দিয়ে বিষ প্রয়োগ করেছি। বাকিটা কি হয় দেখা যাক।

​এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদুল ইসলাম জানান, সেচপাম্পগুলোতে যাতে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়, সেজন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাজরা পোকা দমনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

​তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি—শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানো, দ্রুত সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পোকা দমনে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না দিলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

এসএ