পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো কুয়াকাটা বিচ কার্নিভাল ২০২৬
দীর্ঘ ৯ বছর পর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বিচ কার্নিভাল। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন ঘটে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে। নানা অনুষ্ঠান ও খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে কার্নিভাল শেষ হলেও সৈকত ও অনুষ্ঠানস্থলের বিভিন্ন স্থানে জমে যায় পানির বোতল, খাবারের উচ্ছিষ্টসহ নানা ধরনের বর্জ্য। এসব বর্জ্য অপসারণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় কুয়াকাটা বিচ কার্নিভাল ২০২৬।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় কুয়াকাটা সৈকতের মাছ ফ্রাই পট্টির পূর্ব পাশসহ কার্নিভালের অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, বিচ কার্নিভালের বিভিন্ন ইভেন্টের পাশাপাশি পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও ছিল তাঁদের পরিকল্পনার অংশ। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শেষে তাঁরা নিজেরাই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন এবং জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করেন।
পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মনিরুল ইসলাম লিটন বলেন, “তিন দিন ধরে এখানে বিচ কার্নিভালের অনুষ্ঠান হয়েছে। এ সময় দর্শনার্থী ও পর্যটকদের ফেলে যাওয়া ময়লা-আবর্জনা জমেছে। এসব বর্জ্য পড়ে থাকলে পরিবেশ দূষিত হবে। তাই পরিবেশ সুরক্ষায় আমরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মোঃ নাজমুল আহসান বলেন, “কুয়াকাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা আসেন। তিন দিনব্যাপী কার্নিভাল অনুষ্ঠানে অনেক ময়লা-আবর্জনা জমেছে। সেগুলো পরিষ্কার করে আমরা একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পর্যটন এলাকা গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যেই অনুষ্ঠান শেষে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শামীমুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে কুয়াকাটায় বিচ কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান উপলক্ষে যেসব স্থানে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, সেসব স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজের আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। আমাদের অনুষ্ঠানের কারণে যেসব স্থানে ময়লা-আবর্জনা হয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করছি। আজকের এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে আমরা অনুষ্ঠান শেষ করতে যাচ্ছি।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সৈকতের পরিবেশ দূষণ রোধে পর্যটকদের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এসএ




Comments