গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে শুরু হয়েছে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মী দশমী মেলা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) থেকে পূবাইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মেলাটি পরিণত হয়েছে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মিলনমেলায়।
নগরীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পূবাইল বাজার শ্রীশ্রী রাধা মাধব কেন্দ্রীয় মন্দিরের উদ্যোগে প্রায় এক শতাব্দী ধরে এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এ ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে পূবাইল ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা। মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে খাবার, খেলনা, পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের শতাধিক দোকান। নানা রঙের আলোয় সাজানো মেলায় শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ বিভিন্ন মন্দির থেকে আনা প্রতিমা প্রদর্শনী। আয়োজকদের উদ্যোগে আশপাশের বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিমা মেলায় প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে আকর্ষণীয় প্রতিমাগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। এ আয়োজন মেলার সৌন্দর্য ও আকর্ষণ বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ভূমিকা রাখছে।
মেলার আয়োজক ও শ্রীশ্রী রাধা মাধব কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি বাবু গোবিন্দ পোদ্দার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এ মেলার আয়োজন করে আসছেন। আশপাশের বিভিন্ন মন্দির থেকে প্রতিমা এনে প্রদর্শন এবং আকর্ষণীয় প্রতিমাগুলোকে পুরস্কৃত করার রীতি রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।
মেলাকে ঘিরে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছে পূবাইল থানা পুলিশ। দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) জনি বলেন, মেলায় আগত দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা ও আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মেলায় আসা স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ণ দাস বলেন, ‘শৈশব থেকেই এ মেলা দেখে বড় হয়েছি। এখনো একই উৎসাহে পরিবার নিয়ে মেলায় আসি। এটি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, আমাদের এলাকার ঐতিহ্যের অংশ।’
পাশের এলাকার তরুণ অমৃত দাস বলেন, ‘মেলায় এলে মনে হয়, একদিনের জন্য সবাই এক হয়ে যায়। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে অনেক আনন্দ করছি। আশা করি, এ ঐতিহ্য চিরকাল টিকে থাকবে।’
দর্শনার্থী কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি প্রতিবছর পরিবার নিয়ে এখানে আসি। এখানে কোনো বিভেদ নেই, সবাই একসঙ্গে আনন্দ করেন। এমন উৎসবই আমাদের এক করে রাখে।’
স্থানীয়দের মতে, শতবর্ষী লক্ষ্মী দশমী মেলা এখন পূবাইলের মানুষের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি এ মেলা এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এ আয়োজন বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করছে। পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
ডিআর




Comments