হালুয়াঘাটে ঘোড়ায় চড়ে বিদায় নিলেন প্রধান শিক্ষক মুনায়েম খান
১৯৭৪ সালে নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘ ৩৯ বছর ৩ মাস ২৯ দিন সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় আয়োজনে ঘোড়ার পিঠে চড়ে বিদায় নিলেন প্রধান শিক্ষক মো. মুনায়েম খান। তাঁর অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা-শ্রদ্ধায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ৯নং ধারা ইউনিয়নের বারুইগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর রাব্বীকুল আলম। এ ছাড়া বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো. মুনায়েম খানের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট আব্দুল মোতালেব খান, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবদুল হান্নানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সহকারী শিক্ষক রুখসানা আক্তার সুমীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিম। পরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর ফুল দিয়ে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে বরণ করে নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মো. মুনায়েম খানের দীর্ঘ কর্মজীবন, সততা, নিষ্ঠা ও বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, একজন আদর্শ প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি শুধু পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেননি, বরং শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর স্নেহপূর্ণ আচরণ, শৃঙ্খলাবোধ ও নিরলস পরিশ্রম বিদ্যালয় পরিবার এবং এলাকাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কর্মজীবনের অবসান ঘটলেও বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো শেষ হবে না। তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও শিক্ষা ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় অনুপ্রেরণা জোগাবে।
অনুষ্ঠানে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং অবসরজীবনের সুখ-শান্তি কামনা করা হয়। বিদায়বেলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে চারজন নারী ও একজন পুরুষ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক মো. মুনায়েম খানের অবসরের পর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পারভেজ খান।
দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনে প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঘোড়ার পিঠে চড়ে রাজকীয় বিদায়ের মধ্য দিয়ে প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানিয়ে বিদ্যালয় পরিবার তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
ডিআর




Comments