নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যায় ‘আসামির নাম বাদ দেওয়া’ নিয়ে ক্ষোভ প্রতিমন্ত্রীর
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় ছাত্রদল নেতা শাকিল আহমেদ হত্যা মামলা থেকে ‘বাদীর দেওয়া আসামির নাম বাদ দেওয়া এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কার জবানবন্দি না নেওয়ার’ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
তিনি বলেছেন, “আমি যখন শুনলাম, বাদী যে নাম দিয়েছে সেটা বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে মামলা করতে বলা হয়েছে, তখনই আমি ওসি ও এসপিকে জানিয়েছি। যদি দেখা যায়, বাদী যাদের নাম দিয়েছে তদন্ত তাদের নাম না আসে আপনারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে দিবেন।
“কিন্তু বাদী নাম দিয়েছে আপনি বাদ দিয়ে দিবেন এটা বেআইনি। এটা আপনি করতে পারেন না। আমি রাগারাগিও করেছি।”
বৃহস্পতিবার বিকালে বৃষ্টিতে ভিজে নিহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল আহমেদের কবর জিয়ারত শেষে তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, “শাকিলকে আমি যখন পিজি হাসপাতালে দেখতে গেলাম, তখনি ওর বাবা আমাকে বলেছিলেন, পুলিশ বেশ গাফিলতি করছে। পুলিশ যদি জবানবন্দিটা সংগ্রহ করে রাখত তাহলে কিন্তু আমরা অনেক কিছু দ্রুত গতিতে জানতে পারতাম।”
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা আরেকটা জিনিস চাই যে, এই হত্যাকাণ্ডকে অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য যে কেউ যেন ষড়যন্ত্র না করতে পারে। জানাযার পরে যে ঘটনা ঘটেছে, কিছু জায়গায় ভাঙচুর হয়েছে এগুলো যেন আর না হয়।
“যেকোনো মূল্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ। এবং সে যেই হোক না কেন, অপরাধী অপরাধীই। তার কোনো দল নেই, তার কোনো দেশ নেই, তার কোনো কিছুই নেই। ইনশাআল্লাহ সে সাজা পাবে।”
তিনি বলেন, “হয়তো অনেকই চেয়েছে ও না থাকুক। কারণ থাকলে তো নামগুলো দ্রুত চলে আসতো।”
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম বলেন, “বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানাবো।”
এদিন বেলা ৩টার দিকে গুরুদাসপুরে চাঁচকৈড়ে নিহত শাকিলের কবর জিয়ারত শেষে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে তার বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
এ সময় তিনি ঘটনার জন্য আমেরিকান প্রবাসী রাসেল হোসেন ও তার বাহিনীকে দায়ী করেন।
পুলিশ জানায়, ১৪ অক্টোবর রাতে হেলমেট পরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল আহমেদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুটি গুলি করা হয়।
পালানোর সময় শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে শাকিলকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।
অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১২ দিন পর সোমবার অক্টোবর না ফেরার দেশে চলে যান শাকিল।
এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়। পরে সেই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
মঙ্গলবার রাতে শাকিলের মরদেহ ঢাকা থেকে গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাযার জন্য আনা হয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন।
জানাযায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বক্তব্য শুরু করলে মানুষ ক্ষোভ জানাতে থাকেন। এর মধ্যেই শাকিলের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা করেন সংসদ সদস্য। তখন মানুষ ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে চিৎকার করেন।
সোমবার রাতে সংসদ সদস্যের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে মঙ্গলবার তাকে হত্যায় মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে একদল মুখোশধারী লোক চাঁচকৈড় বাজারে আমেরিকান প্রবাসী রাসেল হোসেনের ‘রাশ আরবান স্টাইল’ শপিংমলে হামলা চালায়। গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান মিন্টুর সঙ্গে রাসেলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এর সূত্র ধরে উত্তেজিত জনতা হামলা চালাতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা।
ডিআর




Comments