প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে রাতারাতি বদলে যাচ্ছে মোংলার রাস্তা-ঘাট
আগামী ৫ ই নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলা সফরকে কেন্দ্র করে পুরো উপকূলজুড়ে বইছে উৎসবের হাওয়া। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর আগমন বার্তা পৌঁছানোর পর থেকেই যেন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে অবহেলিত এই জনপদ। যে দিগরাজ থেকে মোংলা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা ও চলাচলের অনুপযোগী ছিল, সেই ভাঙাচোরা রাস্তাটি এখন মাত্র কয়েকদিনেই নতুন রূপ পেয়েছে। রাস্তায় পিচ ঢালাই, কার্পেটিং ও সংস্কারের কাজ দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলছে। একই সাথে খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট সংস্কার ও রঙের কাজ চলছে, যা চোখে পড়ার মতো।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী সড়ক পথে অবতরণের জন্য খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলার কাজ গত ৩ নভেম্বরের মধ্যেই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। রাস্তার চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী, সভা মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিদিন এলাকা পরিদর্শন করছেন।
প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সকাল ১০টায় সেখানে পৌঁছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে মাজার থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে বেলা ২টা ১৫ মিনিটে খুলনা সার্কিট হাউজে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর।
বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফর শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বাগেরহাট ও খুলনা জেলা প্রশাসন এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা দৈনিক মানবকন্ঠকে বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আমাদের সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সভাস্থল থেকে শুরু করে রাস্তা সংস্কার ও নিরাপত্তা সবকিছুই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী আসছেন শুনেই বছরের পর বছর পড়ে থাকা রাস্তা মেরামত হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে সুপেয় পানির সংকট, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং সুন্দরবন সুরক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ আসবে এমনটাই প্রত্যাশা উপকূলবাসীর।
ডিআর




Comments