Image description

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে খুলনা মহানগরীতে। তাঁকে বরণ করে নিতে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, বর্ণিল দেয়ালচিত্র, শোভাযাত্রা ও সংবর্ধনা আয়োজন ঘিরে খুলনাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রতিদিনই চলছে দফায় দফায় সভা, বর্ধিত সভা ও মতবিনিময়। তবে এবার তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে শহর ঢেকে ফেলার পরিবর্তে শৃঙ্খলাপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনা নগরীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে খুলনা মহানগরী। নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনার নানা চিত্রকর্ম। এসব দেয়ালচিত্রে স্থান পেয়েছে সুন্দরবন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক নিদর্শন।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনাকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগরী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে খুলনার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরা হচ্ছে। সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদসহ এ অঞ্চলের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য নগরীর সৌন্দর্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠুক, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, নগরীর সৌন্দর্য দেখে আগত অতিথিরা মুগ্ধ হবেন এবং খুলনাবাসী নিজেদের শহর নিয়ে গর্ববোধ করবেন—এটাই তাঁদের লক্ষ্য।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে বড় ধরনের সংবর্ধনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রূপসার কুদির বটতলা থেকে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরেবাংলা রোড, পাওয়ার হাউস মোড় পেরিয়ে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীরা ও সাধারণ মানুষ।

খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, কুদির বটতলা থেকে রূপসা বাইপাস হয়ে জেলা স্টেডিয়ামমুখী পুরো পথজুড়ে খুলনাবাসী পুষ্পবৃষ্টি ও অভিনন্দনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন। শৃঙ্খলা রক্ষা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তোরণ-ব্যানার দিয়ে শহর না ঢেকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব খুলনা গড়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অন্যদিকে, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি বলেন, শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে আগামী ৫ নভেম্বর খুলনায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর দ্বিতীয় আসর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন।

তিনি বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সুস্থ, দক্ষ ও শক্তিশালী জাতি গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য বিকাশের পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন ও সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সফর উপলক্ষে যানবাহন, বিশ্রামের ব্যবস্থা, হেলিপ্যাড প্রস্তুত, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি চিকিৎসাসেবা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জেনারেটর, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের কর্মসূচি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করা হবে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) তথ্য অনুযায়ী, এ আসরে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন। প্রথম আসরে নিবন্ধিত প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার। দ্বিতীয় আসরে নিবন্ধিত প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে খুলনাবাসীর প্রত্যাশা, শুধু বর্ণাঢ্য আয়োজনেই নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন, ক্রীড়া অবকাঠামোর বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিভা অন্বেষণেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসএ