দিনে আবাসিক হোটেল, রাতে কীসের আখড়া?
মইজ্জ্যারটেকের রাফা হোটেল ঘিরে তোলপাড়
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকায় রাফা আবাসিক হোটেলকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আবাসিক হোটেল ব্যবসার আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলায় হোটেলটিতে তেমন লোকজনের আনাগোনা দেখা না গেলেও রাতের বেলায় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের যাতায়াত বেড়ে যায়। এ নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সচেতন মহলে।
গত ৩ নভেম্বর রাতে ওই হোটেল থেকে এক নারীকে আটক করেছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালী থেকে আসা ওই নারী (ছদ্মনাম তাসলিমা) চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তির সঙ্গে মইজ্জ্যারটেকের রাফা আবাসিক হোটেলে ওঠেন। তাঁদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের খবর দেন। খবর পেয়ে ওই পুরুষ ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে জানা গেছে।
পরে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী হোটেলে গিয়ে অভ্যর্থনায় নিয়োজিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন যুবক তাঁদের দিকে তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই নারীকে আটক করে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেলটিতে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহজনক ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নারী-পুরুষের আনাগোনা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আবাসিক হোটেলের স্বাভাবিক ব্যবসার আড়ালে কোনো অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
হোটেলটি নিয়ে বিতর্কের শুরু অবশ্য আরও আগে। উদ্বোধনী প্রচারণার ব্যানার কর্ণফুলী আব্দুল জলিল চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের প্রধান ফটকে লাগানো হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে আবাসিক হোটেলের প্রচারণা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। পরে সমালোচনার মুখে ব্যানারটি সরিয়ে নেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দিনের বেলায় হোটেলটিতে তেমন লোকজনের আনাগোনা দেখা যায় না। অথচ রাতের বেলায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। তাঁদের প্রশ্ন, আবাসিক হোটেলের আড়ালে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত? তাঁরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকার কয়েকজন আলেম-ওলামা ও সচেতন ব্যক্তি বলেন, কর্ণফুলীর সামাজিক পরিবেশ ও তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। আবাসিক হোটেলের নামে কোনো অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা প্রতিরোধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে রাফা আবাসিক হোটেলের মালিক মোহাম্মদ আলম ও মোহাম্মদ সুমনের বক্তব্য নিতে হোটেলে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। পরে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে তদবিরের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমদ বলেন, বিষয়টি পুলিশ পর্যবেক্ষণে রেখেছে। কর্ণফুলীতে আবাসিক হোটেল ব্যবসার আড়ালে কোনো অসামাজিক কার্যকলাপের সুযোগ দেওয়া হবে না। আটক নারীর বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু একজন নারীকে আটকের মধ্যেই যেন বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থাকে। রাফা আবাসিক হোটেলের প্রকৃত কার্যক্রম, উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারিতে কর্ণফুলীর সামাজিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
এসএ




Comments