ভারতের আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা চায় যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন
‘ধর্মীয় উগ্রবাদ’ ছড়ানোর অভিযোগ তুলে ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)–এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)।
বুধবার (২০ আগস্ট) এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ দাবি জানায়। একই সঙ্গে আরএসএসের নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের সম্মাননা না দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করারও আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।
এবিপি লাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি এমন সময়ে উঠল, যখন সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবত আগামী ২৫ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য সফর শুরু করতে যাচ্ছেন। ২৯ আগস্ট নিউইয়র্ক সিটিতে একটি অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে পরিচিত আরএসএস। বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই আরএসএসের বিরুদ্ধে কট্টর হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ রয়েছে।
ইউএসসিআইআরএফের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ এক্সে দেওয়া পোস্টে আরএসএসের বিরুদ্ধে ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আরএসএসের সদস্য।
কমিশনার জিন মিলসও আরএসএসের নেতাদের নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংগঠনটির কোনো নেতা ভারত সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সৌজন্য দেখানো উচিত নয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী আরএসএসের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করারও আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে কানাডার দুই পার্লামেন্ট সদস্য মোহন ভাগবতকে দেশটিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছিলেন। পার্লামেন্ট সদস্য হেদার ম্যাকফার্সন ও জেনি কোয়ান কানাডার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে পৃথক খোলা চিঠি দেন।
চিঠিতে তারা দাবি করেন, কানাডায় মোহন ভাগবতের সফর দেশটির নাগরিকদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনেও ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ইউএসসিআইআরএফ। ওই প্রতিবেদনে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গে আরএসএস ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র্য) নাম উল্লেখ করা হয়। তবে ভারত সরকার ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র: এবিপি লাইভ
এসএস




Comments