Image description

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছর ধরে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই কারাবন্দি নিরাপত্তা প্রহরী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবীরের (এনামুল) জামিন চেয়েছে নিহতদের পরিবার। দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তিনি বর্তমানে মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন বলে পিবিআই (ঢাকা মেট্রো উত্তর)-এর এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ফ্ল্যাট থেকে সাগর ও রুনির লাশ উদ্ধার করা হয়। এনাম আহমেদ ওই ভবনের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তৎকালীন তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব তাঁকে ‘সন্দিগ্ধ আসামি’ হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। সেই থেকে তিনি জেলহাজতেই বন্দি রয়েছেন।

বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের আওতায় পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ তদন্তে এনাম আহমেদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত ২২ এপ্রিল (২০২৬) কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি এবং সবকিছু ভুলে যাওয়ার মতো আচরণ করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে তাঁকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দীর্ঘ সময় বন্দি থাকায় এনাম বর্তমানে গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাঁকে এখন সাধারণ কয়েদিদের থেকে আলাদা একটি ওয়ার্ডে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দ্রুত সুচিকিৎসা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মেহেরুন রুনির ভাই ও মামলার বাদী নওশের আলম বলেন, "আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক, কিন্তু কাউকে যেন অহেতুক হয়রানি না করা হয়। দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছরেও এনামুলের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমরা চাই তাঁকে জামিন দিয়ে মুক্তি দেওয়া হোক এবং তাঁর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।"

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি তাঁদের নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। মামলার তদন্তে প্রথমে ডিবি ও পরে দীর্ঘ সময় র‍্যাব কাজ করলেও ১১২ বার সময় নিয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয় তারা। পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই-এর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের টাস্কফোর্স।

ডিআর