গ্যাসসংকটে দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে সার উৎপাদনে ফিরেছে দেশের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। গত আগস্টের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চূড়ান্ত উৎপাদন শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। কারখানার অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিবিড় প্রচেষ্টায় প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ শেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর কারখানা সচল হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও সিইউএফএলকে সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে গেছে।
সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত মাসের শেষ দিকে কাঙ্ক্ষিত গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পরপরই ধাপে ধাপে কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়। এরপর ইউরিয়া প্ল্যান্টের মূল যন্ত্রপাতি সচল করে উৎপাদনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। কারখানার প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা প্রচেষ্টায় সেসব ত্রুটি মেরামত করে মঙ্গলবার সকালে পূর্ণাঙ্গ ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়।
কারখানার বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সিইউএফএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) উত্তম চৌধুরী বলেন, "গত মাসের শেষ দিকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া সত্ত্বেও অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন শুরু করতে সামান্য বিলম্ব হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি সচল করার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে কারখানাটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে।"
অন্যদিকে, সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, "প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর কারখানায় পুনরায় সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এখন থেকে যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায়, তবে নিয়মিত উৎপাদন বজায় রেখে বিগত দিনের ক্ষতি অনেকাংশে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।"
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিইউএফএল কারখানাটি পূর্ণমাত্রায় চালু রাখতে দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। একসময় কারখানাটিতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদিত হলেও বর্তমানে দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা নেমে এসেছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টনে।
প্রচণ্ড গ্যাসসংকটের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার সিইউএফএলের উৎপাদন মুখ থুবড়ে পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পুরো বছরে কারখানাটি মাত্র পাঁচ দিন চালু থাকতে পেরেছিল। এরপর ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পুনরায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, যা দীর্ঘ বিরতির পর ওই বছরের অক্টোবরে গিয়ে পুনরায় চালু হয়। ২০২৫ সালেও তীব্র গ্যাসসংকট ও একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটি একাধিকবার বন্ধ ও চালুর চক্রে আটকে থাকে। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ মার্চ গ্যাস সংকটে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ ৬ মাসের বিরতি শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর আবার উৎপাদনে ফিরল সিইউএফএল।
ডিআর




Comments