সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় নিয়োগপত্র না পাওয়া ঝিনাইদহের মিশন আচার্য অবশেষে তার কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র পেতে যাচ্ছেন। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন জানান, "চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দুই দিনের প্রশাসনিক সফর শেষে মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে তার নিয়োগের জটিলতা নিরসনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মিশন আচার্যের নিয়োগপত্র প্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী।"
এর আগে 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫'-এ ঝিনাইদহ সদর উপজেলা থেকে অংশ নিয়ে মেধাক্রমে ১৭তম স্থান অর্জন করেন মিশন আচার্য। ওই উপজেলায় মোট ১৮২ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হলেও সম্প্রতি ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তবে নিজস্ব স্থায়ী জমি বা বসতভিটা না থাকার অজুহাতে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসন থেকে মিশন আচার্যকে নিয়োগপত্র প্রদান বন্ধ রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টিগোচর হয়।
শিক্ষামন্ত্রীকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক আধা-সরকারিপত্রে (ডিও লেটার) রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, মিশন আচার্য জন্মলগ্ন থেকেই ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। ছোটবেলায় পিতৃহীন হওয়া মিশনকে তার মা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হয়ে পড়াশোনা করিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে সাফল্যের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা শেষ করে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।
চিঠিতে মানবিক দিক ও প্রার্থীর মেধার মূল্যায়ন বিবেচনা করে বিধিমোতাবেক দ্রুত নিয়োগপত্র হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্রশাসনিক এ অগ্রগতির পর অবশেষে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পথ সুগম হলো এই মেধাবী তরুণের।




Comments