Image description

ডলারের তীব্র সংকটের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন বিদেশি সহায়তা। তবে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি কমেছে ৬২ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে অর্থ ছাড়ও। এই অবস্থা চলতে থাকলে সরকারের বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে প্রকাশিত বিদেশি ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
 
ইআরডির হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বিদেশি ঋণের অর্থছাড় কমে ৪২৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪৬৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ শতাংশ কমেছে। এ অর্থবছর ১২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। আগামী ৫ মাসে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় রয়েছে। 
 
এ সময় প্রতিশ্রুতিও কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। আলোচিত এ মাসে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ১৭৬ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। অথচ গত অর্থবছর জানুয়ারিতে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৪৭০ কোটি ডলার। বছরের ব্যবধানে বিদেশিদের ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কমেছে ৬২ দশমিক ৪১ শতাংশ। 
 
এ বছর জানুয়ারিতে ঋণের প্রতিশ্রুতির শীর্ষে আছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। এ উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি বিশ্ব ব্যাংকের আইডিএ প্রোগ্রাম থেকে ৩০ কোটি ডলার। তবে এ সময় বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের অবস্থা গত বছরের চেয়ে তুলনামূলক ভালো। জানুয়ারি পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ হয়েছে ১২৮ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, টাকার অঙ্কে যা ১২ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে ঋণ পরিশোধ হয়েছিল ১২২ কোটি ১২ লাখ ডলার বা ১০ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। 
 
বিদেশি ঋণের পাইপলাইনে এ বছর আছে ৯৭২ কোটি ডলার। এর মধ্যে আমেরিকা ও জাপান থেকেই আসার কথা রয়েছে ২৫৯ কোটি ডলার। বিশ^ব্যাংকের আইডিএ কর্মসূচির আওতায় পাইপলাইনে আছে ২৩৫ কোটি ডলার। এডিবির পাইপলাইনে আছে ১৭৭ কোটি ডলার।
 
ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ৪৯ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণ-সহায়তা এসেছিল, যা ছিল গত জুলাইয়ের চেয়ে ৪৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। কিন্তু দ্বিতীয় মাস আগস্টে এসে তা হোঁচট খায়। ওই মাসে ৩৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের ঋণ ছাড় করে দাতারা, যা ছিল আগের মাস জুলাইয়ের চেয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ কম।
 
পরের দুই মাস সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে অবশ্য তা কিছুটা বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে আসে ৪৮ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। আর অক্টোবরে আসে ৬২ কোটি ১৪ লাখ ডলার। নভেম্বর মাসে তা কমে ৪৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে অবশ্য বিদেশি ঋণ-সহায়তার অঙ্ক বেশ বেড়েছে; এই মাসে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ১৩২ কোটি ডলার এসেছে। সবশেষ ২০২৩ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এসেছে ৪৮ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ দশমিক ২ শতাংশ বিদেশি ঋণ কম এসেছে দেশে।
 
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী ঋণ-সহায়তা পাওয়া গেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ১০৪ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার অর্থ ছাড় করেছে জাপান। এটি সর্বোচ্চ। যা মোট বিদেশি ঋণের প্রায় ৩৭ শতাংশ। তবে তাদের কাছ থেকে নতুন করে প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ৩০ লাখ ডলার। 
 
অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে এডিবি ছাড় করেছে ৬৩ কোটি ৮৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার, প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ৮৪ কোটি ৭ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাংক ছাড় করেছে ৬৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার, প্রতিশ্রুতির অঙ্ক ৩০ কোটি ডলারের। চীনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ৫৬ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার; তবে কোনো প্রতিশ্রুতি মিলেনি। এ ছাড়া ভারত দিয়েছে ১৬ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এ ছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ৪৬ কোটি ৩৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) দিয়েছে ৩২ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার।