বকেয়া বেতন ও আসন্ন ঈদুল ফিতরের বোনাসের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) দুই সহস্রাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে সদর রোড অবরোধ করে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ায় সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শ্রম অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে ওই গেজেটে উৎসব ভাতা না দেওয়ার শর্ত থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা মাসে ৩০ দিন হাড়ভাঙা খাটুনি দিলেও হাজিরা পান মাত্র ২২ দিনের। বাকি ৮ দিনের মজুরি থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া গত বছর তারা ঈদ বোনাস পেলেও এবার তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক রবি দাস বলেন, “আমরা পুরো মাস কাজ করে মাত্র ২২ দিনের টাকা পাই। তার ওপর এবার ঈদ বোনাস বন্ধ করার পায়তারা চলছে। গত বছর বোনাস দেওয়া হলেও এবার কেন দেওয়া হবে না? আমাদের দাবি পূরণ না হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
আরেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী পারুল বেগম বলেন, “বর্তমান বাজারের অবস্থায় ১৬ হাজার টাকা দিয়ে সংসার চালানোই অসম্ভব। তার ওপর ঈদের সময় বোনাস না থাকলে আমরা পরিবার নিয়ে কোথায় যাব?”
আন্দোলনের মুখে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেন। তিনি শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দিনের সময় চেয়েছেন। তবে শ্রমিকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে তারা শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বন্ধসহ অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাবেন।
সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, গেজেটে উৎসব ভাতা না দেওয়ার কথা থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনা করে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার চেষ্টা চলছে। তবে বিক্ষোভের কারণে কয়েক ঘণ্টা সদর রোডে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments